কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন–কে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে বহাল রাখার দাবিতে জেলায় আবারও আন্দোলন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। একই সময়ে কার্যালয়ের ভেতরে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের একজন জানান, দুপুরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের কুষ্টিয়ার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম–এর কাছে জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন—এমন নির্দেশনা পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও চলছে।
গত রোববার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কুষ্টিয়াসহ দেশের পাঁচটি জেলার জেলা প্রশাসককে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর থেকে তাঁকে বহাল রাখা বা না রাখা নিয়ে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ ইস্যুতে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। সোমবার উভয় পক্ষ পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে।
জামায়াত, ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের দাবি, জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন ‘মানবিক প্রশাসক’ হিসেবে কাজ করেছেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁকে দ্রুত বহাল না করা হলে অসহযোগ আন্দোলনসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘোষণাও আসে কিছু বক্তার বক্তব্যে।
অন্যদিকে বিএনপি ও যুবদলের নেতারা বলছেন, জেলা প্রশাসকের বদলি সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তাঁদের অভিযোগ, বদলি ঠেকাতে জামায়াত-শিবির সমর্থিত গোষ্ঠী ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করছে।
ডিসিকে বহাল রাখার দাবিতে ‘জুলাই যোদ্ধা ও কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বিপরীতে সরকারের প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের দাবিতে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধা অ্যাসোসিয়েশন ও সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে পাল্টা অবস্থান কর্মসূচি হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টার পর থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হন; তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারীও রয়েছেন। আন্দোলনকারীরা ডিসিকে কুষ্টিয়ায় বহাল রাখার দাবিতে স্লোগান দেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একটি মিছিল শহরের মজমপুর রেলগেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয়ের সামনে ফিরে আসে। দুপুর পর্যন্ত তাঁরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি ও পুলিশের টহল দেখা গেছে।
আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, বহাল রাখার প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার গণমাধ্যমকে বলেন, এ আন্দোলন দলীয় নয়; জেলা প্রশাসকের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণেই এটি হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে দলের কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






