রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো লালমনিরহাট জেলার তিস্তা রেল সেতুর বয়স ১২৬ বছর পূর্ণ হলেও এটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ডিজি আফজাল হোসেন বলেন, “তিস্তা রেল সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। বয়স ১২৬ বছর হলেও এটি নিয়মিত কারিগরি পরিদর্শন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নিরাপদ রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে ট্রেন চলাচলে কোনো ঝুঁকি নেই।”
তিনি আরও জানান, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে লালমনিরহাট জেলা মিটারগেজ লাইনের দিক থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ অঞ্চল। এ অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সক্ষম করে তুলতে ধাপে ধাপে মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ের মহাপরিচালক বলেন, “ব্রডগেজ লাইনে রূপান্তরের আগে তিস্তা রেল সেতুর পাশাপাশি আরও একটি নতুন রেল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে পুরো রেললাইন ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে। আপাতত মিটারগেজে ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সেতু নির্মাণ ও রেললাইন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও সহজ, নিরাপদ ও গতিশীল হবে।
এ সময় রেল সেতুর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন রেলওয়ের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, “রেল বিভাগের অবকাঠামো রক্ষায় সর্বত্র পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের পক্ষে কঠিন। রেল সেতু ও রেললাইন রক্ষায় স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতাশীল হতে হবে।” মতবিনিময়কালে রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তিস্তা রেল সেতুর বর্তমান অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মহাপরিচালককে বিস্তারিত অবহিত করেন।
এ সময় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বার্তা বাজার/এস এইচ






