ঢাকা   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান
রেডিও বার্তানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: উপজেলা প্রতিনিধি

একই আসনে দুই দলের প্রার্থী হয়ে স্বামী-স্ত্রীর ব্যতিক্রমী লড়াই

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৫ এএম

একই আসনে দুই দলের প্রার্থী হয়ে স্বামী-স্ত্রীর ব্যতিক্রমী লড়াই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) সংসদীয় আসনে সৃষ্টি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই আসনে স্বামী ও স্ত্রী ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতি ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন কেএম ফজলুল মণ্ডল। অপরদিকে তার সহধর্মিণী মোছা. শেফালী বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মনোনয়নে।

কেএম ফজলুল হক তাদের দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ হয়েছে বলে দাবি করেন; কিন্তু শেফালী বেগমের দাবি আইনিভাবে ফজলু এখনো তার স্বামী। কয়েক বছর ধরে তাদের মাঝে মনোমালিন্য থাকায় আলাদা থাকছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত একই পরিবারের সদস্যরা একই রাজনৈতিক আদর্শে যুক্ত থাকলেও স্বামী–স্ত্রীর ভিন্ন দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এ অঞ্চলের রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। এতে নির্বাচনি প্রতিযোগিতা যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনি ভোটের মাঠে বাড়ছে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আলোচনা।

এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক ভোটার বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী ও কৌতূহলোদ্দীপক হিসেবে দেখছেন।

তবে রাজিবপুর উপজেলার আমিনুল ইসলাম, এরশাদুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, তারা পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় না এনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান, যোগ্যতা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা। এখানে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থাকলেও সাবেক স্বামী-স্ত্রীর ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারে নির্বাচন করাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির (এ) প্রার্থী কেএম ফজলুল মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শেফালী আক্তারের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি আমার সাবেক স্ত্রী। তিনি আগে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং চাকরি ছেড়ে দেওয়ার তিন বছরও পূর্ণ হয়নি। কিভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধতা দিলেন, তা আমার জানা নেই।

বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী মোছা. শেফালী বেগম বলেন, কেএম ফজলুল মণ্ডল আইনিভাবে এখনো আমার স্বামী। চলতি মাসের ৩ তারিখে আমার বাড়িতে এসে সময় কাটিয়ে গেছেন এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথাও বলে গেছেন। তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।

চাকরি ছাড়ার বিষয়ে তার স্বামীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় ৪-৫ বছর আগে শিক্ষকতা চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। আমার স্বামীর অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে চর রাজিবপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ফজলুল মাঝে মধ্যে তার শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর কাছে আসেন। তবে গত ৩ তারিখে এসেছিলেন কিনা তার জানা নেই।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং স্বামী-স্ত্রীর মুখোমুখি লড়াইয়ের কারণে একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচিত নির্বাচনি অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।

এদিকে স্বামী-স্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটের রায়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জনগণ কাকে তাদের সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন এবং এই আলোচিত লড়াইয়ের শেষ পরিণতি কোন দিকে গড়ায় তা দেখার বিষয়।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এ আসনে গত শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এখন তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণ করছেন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন