বরিশালের বাকেরগঞ্জে গত সপ্তাহে শিক্ষকদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির কারণে উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে দক্ষিণ আফালকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে হতাশা নেমে এসেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে।
জানা যায়, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতিসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরে আগে থেকেই কর্মবিরতি পালন করছিলেন। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় তারা কমপ্লিট শাটডাউনের মতো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। গত ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সারাদেশের ন্যায় বাকেরগঞ্জের নলুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আফালকাঠী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন। যে কারণে বিদ্যালয়টিতে নির্ধারিত বার্ষিক পরীক্ষা থাকলেও শিক্ষকরা পরীক্ষা নেয়নি। ওই কমপ্লিট শাটডাউ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয় ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান রিমা। তথচ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ৫২ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের গেটে এসে পরীক্ষা না দিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষা না নেওয়ার কারণে শিশুদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এবং শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান রিমা দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এই বিদ্যালয় কর্মরত থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ করা সহ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় নানা অনিয়ম করে আসছে। বার্ষিক পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের এই ধরনের ভূমিকা অমানবিক বলেও মন্তব্য করেন তারা।
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান জানান, গত ৪ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ে গেলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আমরা বাড়িতে চলে আসি। গতকাল ৪ ডিসেম্বর রবিবার আমাদের অংক পরীক্ষা শেষ হলে তখন আমাদের হাতে চারু ও চারুকলা পরীক্ষার গত বৃহস্পতিবারের প্রশ্নপত্র আমাদের হাতে দেয় শিক্ষকরা।
তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর তানজিলার পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার চারু ও কারুকলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ঐদিন কোন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র ছাড়াই বাড়িতে ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান রিমাকে বিদ্যালয় থেকে বদলির দাবি জানায়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান রিমা জানান, প্রাথমিকের সব বিদ্যালয় গুলোতে কমপ্লিট শাটডাউন চলছিল। তাই আমরাও কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছি। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মৌখিকভাবে নিয়েছি আমরা। শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র দেইনি। প্রশ্নপত্র দিলে জানাজানি হয়ে যেত আমাদের স্কুলে কমপ্লিট শাটডাউন পালন না করে আমরা পরীক্ষা নিয়েছি। সেই ভয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, নলুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আফালকাঠী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে কিনা তদন্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন, গত ২২ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান রিমা ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে বদলি করা হবে।
বার্তা বাজার/এস এইচ






