ঢাকা   রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: উপজেলা প্রতিনিধি

দারিদ্র্যের তাড়নায় দুই সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন বাবা-মা

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০৪ পিএম

দারিদ্র্যের তাড়নায় দুই সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন বাবা-মা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নে দারিদ্র্যের তাড়নায় সন্তান বিক্রির হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ৫০ হাজার টাকা বিনিময়ে নবজাতককে বিক্রি করে দিলেন মা-বাবা।

জানা যায়, ভিক্ষাবৃত্তি আর দিনমজুরির আয়ে চলা লালন মিয়া ও তার স্ত্রী মারুফা আক্তার (৩৫) সম্প্রতি দুই সন্তানকে অন্যের কাছে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। মারুফা-লালনের সংসারে বিয়ের আট বছরে একে একে সাত সন্তানের জন্ম হয়। তাদের নিজস্ব বাড়ি কিংবা জমি নেই; লালনের বাবা জীবিত থাকতেই অভাবের কারণে বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হন। বর্তমানে দম্পতি অন্যের জমিতে বানানো একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন।

গত সেপ্টেম্বরে সন্তান জন্মের ১৫ দিন পর মারুফা তার নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় অন্যের হাতে তুলে দেন। এর আগেও তারা আরেকটি সন্তানকে ৪৫ হাজার টাকায় দিয়ে দেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দরিদ্র পরিবারটি অন্যের জমিতে বানানো খড়ের ছাউনির ঘরে বাস করছে। ঘরে দরজা নেই, নেই কোনো আসবাবপত্র। সদ্য সন্তান প্রসব করা মারুফা এক কোণে বসে আছেন; চারপাশে পাঁচটি শিশু মাটিতে বসে ভাত আর সেদ্ধ লাউ খাচ্ছে। দেখে মনে হয়, তারা অনেক দিন ভালো খাবার পায়নি।

সন্তান বিক্রির কারণ জানতে চাইলে মারুফা বলেন, “আমাদের কেউ নেই। অভাবে পড়লেই মানুষ গালি দেয়, ধাক্কা দেয়। বাচ্চাদের মুখে দুধ তোলার সামর্থ্য নেই, বিছানাও নেই, মাটিতে ঘুমাই। বুকের ভেতরে আগুন জ্বলে—কিছু করার নেই। নিজের সন্তান অন্যের হাতে তুলে দিয়েছি, আর মানুষ নানা কথা বলে। কিন্তু আমাদের খোঁজ নিতে কেউ আসে না।”

লালন মিয়া বলেন, “বৌ আর নবজাতককে নিয়ে আমরা বিপদে পড়েছিলাম। বৌডা খুব অসুস্থ হয়ে যায় আর বাচ্চাটাও মরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। ঘরে না খেয়ে, চিকিৎসা ছাড়াই যদি মরে যায়—তাই বিক্রি করতে হলো। কাগজপত্র করেই দিয়েছি, কাগজ ছাড়া কেউ নিতে চায় না।”

স্থানীয়রা জনান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, আমাদের সমাজ যদি আশেপাশের এই মানুষগুলোর দিকে তাকায় তাহলে এই বিষয়গুলো ঘটতো না। তাই প্রতিবেশী প্রতি প্রতিবেশীরা খোঁজখবর রাখা উচিত। স্থানীয়রা এ বিষয়ে সমাজ ও সরকার প্রতি এই পরিবারের সাহায্য সহযোগিতার করার আহ্বান জানান।

বুড়িশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল চৌধুরী জানান, বিষয়টি আগে জানা ছিল না; খোঁজ নিচ্ছেন বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাসরিন বার্তা বাজার কে বলেন, “এটি খুবই দুঃখজনক। সরকারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন এনজিও যদি সচেতনভাবে কাজ করত তাহলে জন্মহার নিয়ন্ত্রণে আনা যেত। তারপরও পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন