দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার পর দেশের অন্যতম ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির (আইসিএস) দুইটি প্রধান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা ২৫টি আসনের মধ্যে ২০টি আসনে বিজয়ী হয়। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত ইউনাইটেড স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স ২৩টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে রয়েছে সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ পদ।
এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর, যা গত বছর একটি ছাত্র-আন্দোলনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। হাসিনা সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং জানায়, সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফলাফল জামায়াতে ইসলামীর জন্য একটি ‘রাজনৈতিক পুনর্জন্মের’ সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সাফল্যকে অনেকে ‘জনমতের প্রতিফলন’ হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালের যুদ্ধের চেতনার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্ভর করেছে, কিন্তু সেটা এখন আর আগের মতো কার্যকর নয়। ইসলামপন্থীদের প্রতি ভোটারদের সমর্থন ধীরে ধীরে বেড়েছে।”
তবে অনেকেই বলছেন, ছাত্র রাজনীতির ফলাফল সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে না। ঢাকা ভিত্তিক আইনজীবী রোখসানা খন্দকার বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচন বরাবরই ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তাই এটা পুরোপুরি জাতীয় নির্বাচনের প্রতিফলন নয়, তবে একটি স্পষ্ট বার্তা।”
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বাংলাদেশের গড় বয়স বর্তমানে ২৬ বছর। দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনগোষ্ঠী ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী। ফলে তরুণ ভোটাররা আগামী নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেন।
সম্প্রতি SANEM পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৫ বছরের নিচে ২২% তরুণ ভোটার জামায়াতকে সমর্থন করেন, যেখানে বিএনপির পক্ষে রয়েছে ৩৯%। তবে প্রায় ৫০% তরুণ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় দলগুলো আবারও মাঠে ফিরছে, এবং তরুণদের ভোটই হতে যাচ্ছে রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের মূল চালিকা শক্তি।
বার্তাবাজার/এমএইচ






