অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এই সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
🔍 পদত্যাগের গুজব ঘিরে জল্পনা, বৈঠকে ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া পদত্যাগপত্র ঘিরে জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো হয় একটি পুরোনো খবর এবং একটি ভুয়া চিঠি, যাতে দাবি করা হয়—ড. ইউনূস পদত্যাগ করেছেন।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নাহিদ ইসলাম সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজনৈতিক ঐক্য, জনমনে আস্থা বজায় রাখা, এবং গুজব প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
🗣️ সাক্ষাতে কী আলোচনা হয়?
সূত্র জানায়, এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ভেতরের বিভাজন নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করে বলেন:
“দেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ এখনো আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। আমরা রাজনৈতিক ঐক্য রক্ষার পক্ষে এবং বিভ্রান্তি দূর করতে কাজ করে যাব।”
📢 এনসিপির ভূমিকা ও প্রতিক্রিয়া
রেডিও বার্তার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন:
“আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেছি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গুজবের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজনৈতিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।”
❌ ভুয়া চিঠি ও পুরোনো খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি
দুপুরের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের গুজব।
এক্ষেত্রে দুটি উপাদান ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়:
- একটি ভুয়া পদত্যাগপত্র
- ২০১১ সালের একটি পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদন
অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়, এগুলোর কোনোটি বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এগুলো প্রচার করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।






