জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় কবি ও চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পরেও বর্তমান সংবিধান বহাল রাখায় তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বৈধতা মেনে নিতে পারছেন না।
ইমাজিনেক্সট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “জাতীয় সাংস্কৃতি: প্রেক্ষিতে নতুন বাংলাদেশ” শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থান আমাদেরকে নতুন রাষ্ট্র গঠনের দিকে নিয়ে যায়নি। বরং শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সংবিধানই বহাল রাখা হয়েছে, যা আমি মেনে নিতে পারি না।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংবিধানের আওতায় পরিচালিত সরকারকে তিনি বৈধ মনে করেন না। “আমি সবসময় জনগণের পক্ষে কথা বলি। এই সরকারের পক্ষ অবলম্বনের প্রশ্নই ওঠে না,” যোগ করেন তিনি।
বাঙালি জাতিবাদকে ‘ফ্যাসিবাদের একটি রূপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, “ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার মূলেই রয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধিতা। তাই জাতিবাদের যে কোনো রূপ, তা সে ধর্মীয় হোক বা বাঙালি জাতিবাদ, তার বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান।”
ধর্মীয় জাতিবাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসলামে জাতিবাদের কোনো স্থান নেই।”
ফরহাদ মজহার শিক্ষার্থীদের ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্রকে ভবিষ্যৎ গঠনতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সংবিধান মানে শুধু আইন নয়, এটি ঔপনিবেশিক শাসনের এক রূপ। সংবিধান সাধারণত এলিট শ্রেণির দ্বারা তৈরি হয়, যা গরিবদের শোষণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। অথচ গঠনতন্ত্র গড়ে তোলে জনগণ নিজেরা, তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে।”
এছাড়া তিনি বলেন, এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম, মত ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ একত্রিত হয়ে উৎসব করেছে। “এই উৎসবে বাঙালি ছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ধর্মবিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী, সনাতনী, বৌদ্ধ, সবাই অংশ নিয়েছে—যা ‘সবার উৎসব’-এর একটি সুন্দর উদাহরণ,” মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সঞ্চালনায় ছিলেন ইমাজিনেক্সট ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র মুহাম্মদ ইমতিয়াজ। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক জাফর ফিরোজ। উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির, এনসিপি নেতা সরোয়ার তুষার, শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি শহীদুল ইসলাম।






