ঢাকা   সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

কোনও দলের অসাংবিধানিক আবদার মেনে জাতিকে সংকটে ফেলা যাবে না: সালাহ উদ্দিন

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:১২ পিএম

কোনও দলের অসাংবিধানিক আবদার মেনে জাতিকে সংকটে ফেলা যাবে না: সালাহ উদ্দিন

কোনও দলের ‘অবৈধ-অসাংবিধানিক আবদার মেনে জাতিকে সংকট ফেলা যাবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন সালাহ উদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক আলোচনা সভায় দেশের বর্তমান অবস্থা এবং কিছু রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘‘যারা আইন, কানুন, সংবিধান এবং লিগ্যালিটি মেনে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায় এবং করা উচিত— তাদের প্রতি আহ্বান করবো, কোনও রাজনৈতিক দলের অরাজনৈতিক, অবৈধ, অসাংবিধানিক যেকোনও ধরনের আবদার মেনে এই জাতিকে সংকটে ফেলে দেওয়া যাবে না। আমাদেরকে এই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় থাকতে হবে।”

‘‘এই সরকার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার সরকার, সেটা প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বহুবার তার বক্তব্যে বলেছেন এবং এই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই আইনানুগভাবে ভবিষ্যতে এ রাষ্ট্রকে আইনের শাসনের রাষ্ট্র হিসেবে আমাদেরকে পরিচালিত এবং প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

‘আর ব্যক্তি-স্বৈরতন্ত্রের উদ্ভব হবে না’

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘ আমরা যদি শুধু শুধু বলি যে, আইনের শাসনের রাষ্ট্র হবে, এই আইনের শাসনের রাষ্ট্রটা আমাদের প্র্যাকটিস করে দেখাতে হবে। মুখে বললে হবে না। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে যে, চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ইন অল সেক্টর অব দ্য ইন অল অর্গানস অব দ্য স্টেট ইস্টাবলিস হবে, ইনশাল্লাহ। সেই চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মধ্য দিয়ে এভরি অরগান অব স্টেট শুড ফাংশন প্রপারলি উইথ ইন দ্য কনস্টিটিউশনাল বাউন্ডারি। ভবিষ্যতে যে অবস্থাটা আমরা সংস্কারের মধ্য দিয়ে পেতে যাচ্ছি, কমপ্লিট ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইলেকশন কমিশন, কমপ্লিট ইন্ডিপেন্ডেন্ট জুডিশিয়ারি, কেয়ার টেকেয়ার গভর্নমেন্ট রিপ্লেস অ্যান্ড ফ্রিডম অব প্রেস— এই চারটা জিনিস।”

‘‘আমরা যেটা প্রস্তাব করেছি যে, ব্যক্তি স্বৈরতান্ত্রিকতা এভুলিশ করার জন্য ভবিষ্যতে ১০ বছরের সময়সীমা নির্ধারণ— ফর দ্য প্রাইম মিনিস্টার ইন লাইফটাইম, যেকোনও ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না— এই সবগুলো বিবেচনায় আপনাদের সামনে এই জিনিসটা নিশ্চয়ই ট্রান্সপারেন্ট প্রতিভাত হচ্ছে যে, রাষ্ট্রে ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ কোনোদিন আর স্বৈরাচারের উদ্ভব হবে না। ব্যক্তি স্বৈরতান্ত্রিকতা, রাজনৈতিক বা দলীয় স্বৈরতান্ত্রিকতা বা সাংবিধানিক, অথবা সংসদীয় যেকোনও স্বৈরতন্ত্রের উদ্ভব বা ফ্যাসিস্টের উদ্ভব হওয়ার আর সুযোগ নেই। এগুলো এস্টাবলিশ করতে হবে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। আর আপনারা (আইনজীবীরা) হচ্ছেন সেটার গার্ডিয়ান-রক্ষক এবং আপনাদেরকে এই ভূমিকাটা পালন করতে হবে।”

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট বৃটিশ ’ল স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্সের ১৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সালেহ উদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন।

‘পিআর হচ্ছে পারমানেন্ট রেস্টলেসনেস’

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘পিআর কী? আমার কাছে আজ পর্যন্ত প্রপোশনেট রিপ্রেজেনটেটিভ সিস্টেমের নির্বাচন (পিআর)— সারা পৃথিবীতে যেখানে পিআর পদ্ধতি বিভিন্ন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন আদলে বিভিন্নভাবে চালু আছে, তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে যেটা বলা যায়— পিআর মানে হচ্ছে, পারমানেন্ট রেস্টলেসনেস, যেটার সর্বশেষ অভিজ্ঞতা হচ্ছে নেপাল।”

‘‘আজকে রুহুল কুদ্দস কাজল সাহেব পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেখানে পিআর- এর অভিজ্ঞতা আছে, তার একটা গবেষণাধর্মী-বিশ্লেষণধর্মী বক্তৃতা দিয়েছেন,আমরা খুব সমৃদ্ধ হয়েছি। তাতে করে দেখা যায়, এর মাধ্যমে কোথাও এক-দেড়বছর লেগে যায় শুধু সরকার গঠন করতে ইলেকশনের পরে এবং কোনও রকমে সরকার গঠন করতে পারলেও সেই সরকারের স্থায়িত্ব হয়তো কয়েক মাস বা বছর হয়। বাংলাদেশে এটা কারা চালু করতে চাচ্ছে, তাদের পেছনের উদ্দেশ্য কী? একটা উদ্দেশ্য তো অবশ্যই আছে, যাতে কিছু সিট (আসন) বেশি পায়। আরেকটা উদ্দেশ্য আছে, বাংলাদেশে সবসময় যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকে এবং সরকার ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা না আসে।”

তিনি বলেন, ‘‘তাতে কাদের লাভ? লাভ হলো বাংলাদেশে সবসময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকলে যারা লাভজনক পর্যায়ে থাকবে, তাদের লাভ। তার মানে আমাদের পার্শ্ববর্তী কিছু দেশ আছে, যারা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা চায় না, যারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি চায় না, যারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চায় না। কেন চায় না, সেটা তাদের স্বার্থ জড়িত আছে।”

‘‘বাংলাদেশে যদি সবসময় অনৈক্য থাকে, অস্থিতিশীলতা থাকে— তাহলে শেখ হাসিনার মতো আরেকটা ফ্যাসিস্টের উদয় হতে পারে এবং তাদের মধ্য দিয়ে তাদের সব স্বার্থ আদায় হতে পারে, অথবা দুর্বল সরকারের কাছে যা কিছুই দাবি করা যাবে, সমস্ত দাবি আদায় করা যাবে। আমরা কি সেটা চাই, আমাদের জনগণের অভিপ্রায় কী?”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে চলছে উল্লেখ করে সংবিধানের বাইরে কোনও কিছু গ্রহণযোগ্য নয়, তার সাংবিধানিক ব্যাখ্যা এবং বিশ্লেষণ তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র সালাহ উদ্দিন আহমদ।

সংগঠনের আহ্বায়ক ওয়াসি পারভেজ তাহসিনের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও রাগিব রউফ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন