ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। রোববার (১২ মে) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৭ ফ্লাইটে তিনি দুবাই হয়ে ইসলামাবাদের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তবে তার এই আকস্মিক প্রস্থানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সফরকালেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে তলব করা হয়। ৯ মে কক্সবাজারে অবস্থানরত অবস্থায় ওই নির্দেশনার পরই তিনি দ্রুত ঢাকায় ফেরেন।
গোপন সফরের রহস্য
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দ আহমেদ মারুফ তিন দিনের সফরে কক্সবাজারে যান। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি সেখানে পৌঁছান। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্যবসায়ী আজহার মাহমুদ এবং এক নারী। কক্সবাজারে অবস্থানকালে তারা উখিয়ার হোটেল সি-পার্লে ছিলেন এবং একাধিক স্থানে ঘোরাঘুরি করেন।
তবে তাদের উপস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এলে তারা জানতে চায় সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য। তখন বলা হয়, এটি ছিল একটি নিছক ব্যক্তিগত ভ্রমণ।
নারীটি কে?
তদন্তে জানা যায়, সঙ্গে থাকা নারীর নাম হাফিজা হক শাহ, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৩তম ব্যাচের সহকারী পরিচালক হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগে কর্মরত। ঢাকার ঝিগাতলায় তার বাসা, যেখানে হাইকমিশনার ও আজহারের যাতায়াত রয়েছে বলে জানা যায়। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হাইকমিশনারের সঙ্গে একাধিক ছবি থাকলেও বর্তমানে সেগুলো মুছে ফেলা হয়েছে।
হাফিজা হক শাহ এক গণমাধ্যমকে জানান, হাইকমিশনার তার পূর্বপরিচিত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সূত্রে তাদের পরিচয়। তিনি দাবি করেন, কক্সবাজারে তিনি আলাদাভাবে গিয়েছিলেন এবং হোটেলের লবিতে কেবল দেখা হয়েছিল। "একসঙ্গে কফি খাওয়া ছাড়া আর কিছু হয়নি,"— এমন মন্তব্য করেন তিনি।
টিকিট নিয়ে সংশয়
তবে কালবেলার হাতে আসা কক্সবাজারগামী টিকিটে দেখা যায়, হাইকমিশনার ও আজহারের নাম একসঙ্গে থাকলেও সেখানে পরিবারের কোনো সদস্যের নাম নেই। এমনকি ঢাকায় ফেরার টিকিটেও ওই নারীর নাম নেই, থাকছে শুধু আজহারের নাম।
সূত্র আরও জানায়, হাইকমিশনারের এই সফর নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়, যা পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়ায়। এরপর দ্রুত ঢাকায় ফেরার নির্দেশ পান হাইকমিশনার এবং তিনি তার সফরসঙ্গীদের কক্সবাজারে রেখেই নিজ গাড়িতে ঢাকায় ফেরেন। পরে ১২ মে তিনি দেশে ফিরে যান।
পাকিস্তান হাইকমিশনের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন জানায়, সৈয়দ আহমেদ মারুফ সরকারি কাজে সাময়িকভাবে পাকিস্তানে গেছেন।






