প্রচণ্ড গরমের কারণে নানা ধরনের চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১১০০ থেকে ১২০০ রোগী সেবা নিতে আসছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া রোগে আক্রান্ত। বিশেষভাবে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়ার লক্ষণ ও বৃদ্ধি:
স্ক্যাবিস হলে সারা শরীরে চুলকানি শুরু হয়। এটি সাধারণত আঙুলের ফাঁক, নিতম্ব, যৌনাঙ্গ, হাতের তালু, কবজি, বগল, নাভি এবং কনুইতে হয়। এর পাশাপাশি শরীরে ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠে যা অত্যন্ত চুলকায় এবং সেগুলোর থেকে পানি বের হয়। এই রোগের লক্ষণ সাধারণত রাতে বৃদ্ধি পায় এবং গরমকালে এই রোগের প্রকোপ বেশি হয়।
খোসপাঁচড়া অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ:
খোসপাঁচড়া অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ, তাই এটি একজন থেকে আরেক জনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, গামছা, তোয়ালে, বিছানার চাদর, বালিশ ইত্যাদি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ব্যবহারে এই রোগ ছড়াতে পারে। সুতরাং, আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকে অন্যদের বিরত থাকতে হবে এবং চিকিৎসা শেষে এসব জিনিস ভালো করে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে বা আয়রন করে ব্যবহার করতে হবে।
চিকিৎসা:
সঠিক নিয়মে চিকিৎসা নিলে স্ক্যাবিস দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। রোগীর চিকিৎসক পরামর্শ অনুযায়ী মলম ব্যবহার করা এবং চুলকানির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে, যদি পরিবারের অন্য সদস্যরা চিকিৎসা না নেন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখেন, তবে দ্বিতীয় দফায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
শিশুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা:
গরমে শিশুদের মধ্যে স্ক্যাবিসের প্রকোপ বেশি থাকে, তাই তাদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। শিশুদের কুসুম গরম পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করানো এবং তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়ানো উচিত।
গরমের কারণে স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, তাই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।






