সোমবার ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় জড়িত থাকার কথা নাকোচ করে করে দিয়েছে। এর আগে মার্র্র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অজ্ঞাতপরিচয় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার কথা উল্লেখ করে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে বোমা হামলা হুমকি স্থগিত করেন। একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেছেন যে, যদিও কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি, তবে মিশর, পাকিস্তান এবং বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশসহ বিভিন্ন দেশ দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছে।
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সম্পূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এবং তেহরান খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, এর ফলস্বরূপ তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে পরিকল্পিত হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করছেন। তার এই মন্তব্যের ফলে বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যেখানে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয় এবং তেলের দাম আগের তুলনায় তীব্রভাবে কমে ব্যারেল প্রতি ১শ’ ডলারের নিচে নেমে আসে।
ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বলেন যে, তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার, যারা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী কূটনীতিতে জড়িত ছিলেন, রবিবার গভীর রাতে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং আলোচনা অব্যাহত থাকবে। ফ্লোরিডা ছাড়ার আগে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অত্যন্ত জোরালো আলোচনা হয়েছে। দেখা যাক এর পরিণতি কী হয়। আমাদের মধ্যে প্রধান প্রধান বিষয়ে, প্রায় সব বিষয়েই, মতৈক্য হয়েছে।’
তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, এমন কোনো আলোচনা হয়নি এবং তিনি এই প্রতিবেদনগুলোকে আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইরান যাকে আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে, তার জবাব দেওয়ার দিকেই মনোনিবেশ করে আছে এবং নিজেদের নেতৃত্বের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ডিমোনা ও তেল আবিবসহ মার্কিন-সংশ্লিষ্ট অবস্থান এবং ইসরায়েলি শহরগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালিয়েছে। তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। এরমধ্যে, সোমবার রাতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং জেরুজালেমের কাছে তা প্রতিহত করার খবরও পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তবে, সরাসরি আলোচনার পরস্পরবিরোধী দাবি থাকলেও, পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে ওমানের সাথে আলোচনা করেছেন। এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এবং পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগের পর ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস চলাচল করে। তেহরান বলেছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই পথটি পুনরায় খুলবে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ২হাজারেরওু বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।






