ঢাকা   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের সাহস নেই, তারা যুদ্ধ শেষের পথ খুঁজছে: আইআরজিসি

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাহস নেই, তারা যুদ্ধ শেষের পথ খুঁজছে: আইআরজিসি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে নতুন করে কঠোর বক্তব্য দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান এখন পর্যন্ত যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার বেশিরভাগই পুরোনো। আরও উন্নত অস্ত্র এখনো ব্যবহার করা হয়নি। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করার সাহস পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র এবং যুদ্ধের সমাপ্তির পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)–এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাইনি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট’ লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩,৬০০টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে “অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪”।

নাঈনি বলেন, বর্তমানে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই প্রায় এক দশক আগে তৈরি। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে ইরান আরও অনেক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, তবে সেগুলো এখনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি।

ওয়াশিংটনের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করার সাহস পাচ্ছে না মার্কিন নৌবাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে তারা ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছে, তাহলে তাদের উচিত সাহস করে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পারস্য উপসাগরে নিয়ে আসা।

নাঈনির দাবি অনুযায়ী, আইআরজিসি নৌবাহিনী এবং ইরানের সেনাবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওমান উপসাগরের শেষ প্রান্তে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর মতে, এসব জাহাজের অনেকগুলোই উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং মেরামতের জন্য এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে, ফলে তারা বর্তমানে সামরিক অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারছে না।

আইআরজিসির মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরান ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের রাডার ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, গোলাবারুদ ডিপো এবং যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।

নাঈনি বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান দ্রুত ভেঙে পড়বে—এমন ধারণা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করেছিল। তাঁর দাবি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করেছিল সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, শাসনব্যবস্থার দ্বন্দ্ব এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।রাজনৈতিক সংবাদ

তবে বাস্তবে সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধ শুরুর ১৫ দিন পর এখন শত্রুপক্ষই সন্দেহ, হতাশা ও বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। আইআরজিসির এই মুখপাত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত তাদের ব্যর্থতা বুঝতে পেরেছে এবং এখন কীভাবে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত শেষ করা যায় তা নিয়ে ভাবছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে তিনি দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চান। কিন্তু বর্তমানে যুদ্ধের নেপথ্যে থাকা শক্তিগুলোর অবস্থান বদলে গেছে।

নাঈনির দাবি, শত্রুপক্ষ এখন ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কীভাবে সংঘাতের ইতি টানা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান আক্রমণকারীদের শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাবে এবং শত্রুপক্ষ যখন ইরানের সামরিক ও সামাজিক প্রতিরোধ ক্ষমতা মেনে নেবে, তখনই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।

আইআরজিসির এই কঠোর বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং আঞ্চলিক সামরিক শক্তির ভারসাম্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ কোন দিকে যাবে—তা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। তথ্যসূত্র : প্রেস টিভি

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন