ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ইউরোপকে এই যুদ্ধে না জড়ানোর সতর্কবার্তা দিল ইরান

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

ইউরোপকে এই যুদ্ধে না জড়ানোর সতর্কবার্তা দিল ইরান

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি ইউরোপীয় দেশগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তারা যেন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনের যুদ্ধে কোনোভাবেই জড়িয়ে না পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানান, যদি কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেয়, তবে সেই দেশ ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে তাখত-রাভাঞ্চি বলেন, বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে ইরান ইতোমধ্যে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করে দিয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা ইউরোপীয় দেশগুলোসহ সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি যে, তারা যেন সতর্ক থাকে এবং ইরানের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের যুদ্ধে কোনোভাবেই জড়িয়ে না পড়ে।”

ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহযোগিতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, এ হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ইরানের দৃষ্টিতে কূটনৈতিক নীতির বড় ধরনের লঙ্ঘন।

এর আগে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ চলছিল। তেহরান বলছে, আলোচনার শেষ দফা বৈঠকটি গত বৃহস্পতিবার ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছিল এবং দুই পক্ষের মধ্যেই অগ্রগতির আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ঠিক তার পরপরই সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় ইরানের কাছে বিষয়টি গভীর আস্থাভঙ্গ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চিi বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সৎ বিশ্বাস’ নিয়েই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। তার দাবি, আলোচনার শেষ ধাপ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করে আক্রমণ শুরু হওয়া প্রমাণ করে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে অংশ নেয়, তবে অবশ্যই সেই দেশও ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে।” এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে আপস করবে না।

তাখত-রাভানচি একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন পরিস্থিতি আরও জটিল না করে বরং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধের পরিধি বাড়ানো নয়, বরং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সংকটের সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, তারা যুদ্ধ চায় না; বরং তাদের দাবি, সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই তারা শক্ত অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে সব পক্ষের উচিত আবারও কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসা। তাতে করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমানো সম্ভব হতে পারে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন