ঢাকা   সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রয়োজন নেই : আমিরাত

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রয়োজন নেই : আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরেকটি সংঘাতের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানো উচিত। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এমন মন্তব্য করেছেন। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটের এক প্যানেলে ওই মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী শুক্রবার তুরস্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করবে বলে সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় যুদ্ধজাহাজ ইরানের দিকে এগোচ্ছে; কোনও চুক্তি না হলে সম্ভবত ‘‘খারাপ কিছু’’ ঘটবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, এই সংকটের একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন। আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, আমার মনে হয় এই অঞ্চল নানা ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে। আরেকটি সংঘাত আমাদের প্রয়োজন নেই। আমি চাই সরাসরি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা হোক এবং তা থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হোক; যাতে আমাদের প্রতিদিন এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়।

তিনি বলেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হবে। আমার মনে হয়, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ইরান নিজের প্রয়োজনও পূরণ করবে। এটি একটি রাজনৈতিক চুক্তি, একটি বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক চুক্তি হবে; যা এই অঞ্চলের জন্য উপকারী হবে এবং ইরানের অর্থনীতিও পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন কোনও আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা দূর করতে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইস্তাম্বুলে বৈঠক করবেন। আঞ্চলিক এক কূটনীতিক বলেছেন, সৌদি আরব ও মিসরের মতো দেশের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন।

ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর জড়ো হওয়ার পেছনে রয়েছে গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযান। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটিই ছিল ইরানে সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা।

বিক্ষোভ দমনের সময় হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করেননি ট্রাম্প। এরপর তিনি তেহরানের কাছে পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দাবি করেন এবং ইরানের উপকূলে একটি নৌবহর পাঠান। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, ইরান গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করছে। এদিকে তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন, আলোচনার জন্য প্রস্তুতি চলছে।

আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ব্যবসার কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত গত ডিসেম্বর থেকে আলোচনায় রয়েছে। ওই সময় ইয়েমেন-সংক্রান্ত নানা ঘটনায় সৌদি আরবের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে যায়। সৌদি বিমান হামলার পর ইয়েমেন থেকে আমিরাতি বাহিনী প্রত্যাহারেও উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দুই দেশের দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের উত্তেজনা কমেনি।

এর পর থেকে ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন এবং সুদানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে নৃশংসতা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে আমিরাত। গারগাশ এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, বাস্তবতা থেকে এসব ‘শব্দদূষণ’ আলাদা করে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, আমি একটি বার্তা পড়ছিলাম, যেখানে বলা হয়েছিল, সুদান ইস্যু ও সেখানে আমাদের অবস্থান নিয়ে প্রতিদিন আমরা ৪৫ হাজার ঘৃণামূলক পোস্ট পাচ্ছি। হঠাৎ ইয়েমেন ইস্যু সামনে এলো, আর হঠাৎ করেই সুদান-সংক্রান্ত বটের সংখ্যা দিনে ৪৫ হাজার থেকে কমে ৩ হাজারে নেমে এলো। পুরো দলটাই যেন অন্য একটি লড়াইয়ে চলে গেল।

সূত্র: রয়টার্স।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন