কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জেরে পাকিস্তানের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, রাজ্যে যদি কোনো পাকিস্তানি নাগরিক বসবাস করে থাকেন, তাহলে তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) অমিত শাহ দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আলোচনায় শাহ প্রত্যেক মুখ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন রাজ্যে অবস্থানরত পাকিস্তানি নাগরিকদের খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাদের ভারতে থাকার বৈধতা যাচাই করা হয়।
এর আগে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। কাশ্মীরের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ৭ দফা কঠোর নীতিমালা ঘোষণা করে মোদি সরকার। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নিচের পদক্ষেপগুলো ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে:
- সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত: ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্ধু চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করলে চুক্তি পুনর্বহাল হবে না।
- আত্তারি সীমান্ত বন্ধ: পাঞ্জাবের আত্তারি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেবল পূর্বে অনুমোদিত নাগরিকরা ১ মে’র মধ্যে ফিরে যেতে পারবেন।
- সার্ক ভিসা বাতিল: পাকিস্তানি নাগরিকদের দেওয়া সব সার্ক বিশেষ ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের বহিষ্কার: নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের সামরিক, নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এক সপ্তাহ সময় দিয়ে দেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
- হাইকমিশনের জনবল কমানো: দুই দেশের দূতাবাসে কর্মকর্তা সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০-এ নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- ভিসানীতি কড়াকড়ি: পাকিস্তানি নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কেবল চিকিৎসা ভিসা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করতে পারবেন।
- বিএসএফের অনুষ্ঠান সীমিত: সীমান্তে বিএসএফ-এর রিট্রিট অনুষ্ঠানগুলোতে আনুষ্ঠানিকতা কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রতীকী করমর্দন, গেট খোলা ইত্যাদি স্থগিত করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো ভারতের কূটনৈতিক কণ্ঠে একটি কড়া বার্তা—সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়। ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।






