ঢাকা   সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির আগ্রহ

Authorনিউজ রুম

প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২১ পিএম

আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির আগ্রহ

নেপাল থেকে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আশার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের ভেড়ামারায় থাকা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এইচভিডিসির সিস্টেম ব্যবহার করে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যুৎ সহযোগিতা জোরদারে অনুষ্ঠিত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) সপ্তম সভায় এই আলোচনা করা হয়েছে। দুদেশের প্রতিনিধিদল বিষয়টিকে ‘ফলপ্রসূ ও বাস্তবসম্মত’ বলে উল্লেখ করেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে আয়োজিত সভায় বাংলাদেশের পক্ষ নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ এবং নেপালের পক্ষ নেতৃত্ব দেন সে দেশের বিদ্যুৎ, পানি সম্পদ ও সেচ সচিব চিরঞ্জীবী চাটৌট।

সভায় সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ আমদানি-রফতানি, যৌথ বিনিয়োগে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

সভায় জানানো হয়, বিদ্যমান ভেড়ামারা ওই অবকাঠামোতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করলে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হবে। এতে শুষ্ক মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শীতকালে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় উপলব্ধ সঞ্চালন কাঠামো ব্যবহার করে ভবিষ্যতে নেপালে বিদ্যুৎ রফতানিও সম্ভব। এ বিষয়ে প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ এগিয়ে নিতে দুপক্ষ সম্মত হয়।

ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা

বৈঠকে বলা হয়, নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পরিবহনে ভারতের ভূমি অতিক্রম করতেই হবে। তাই বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল ত্রিপাক্ষীয় সমঝোতা চূড়ান্ত করাই এখন প্রধান শর্ত। তিন দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমন্বয়ে কূটনৈতিক ও কারিগরি আলোচনার গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, বিদ্যুৎ খাতের বিশেষ আইন বাতিলের ফলে বাংলাদেশ ভারতীয় জিএমআর গ্রুপের নেপালে নির্মাণাধীন আপার কার্নালি প্রকল্প থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির আগের এলওআই বাতিল করেছে। গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জিএমআরকে জানায়।

এদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচির আওতায় প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের অভিজ্ঞতা নেপালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জ্বালানি দক্ষতা, জ্বালানি অডিট এবং বিদ্যুৎ খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেএসসি সভার আগের দিন একই স্থানে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সপ্তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী বছরের অক্টোবরে নেপালে জেএসসির অষ্টম সভা আয়োজনের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১১ নভেম্বর থেকে নেপাল থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনছে বাংলাদেশ। ত্রিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী নেপাল থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে এই বিদ্যুৎ আসছে। 

চুক্তি অনুযায়ী, নেপাল প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যুৎ রফতানি করবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৪ সেন্ট, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে সাত টাকা।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন