সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সসিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার দায়)সহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ পর্যায়ে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং আরেকজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যদিয়ে শেষ হতে পারে মামলার এই পর্যায়ের বিচারিক কাজ।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এদিন এই মামলায় সাক্ষ্য দেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
তার সাক্ষ্য নেওয়ার সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটরসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা। মাহমুদুর রহমানের সাক্ষ্য নেওয়ার মধ্যে ট্রাইব্যুনাল মধ্যাহ্ন বিরতীতে গেলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তাজুল ইসলাম। এই মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। চৌধুরী মামুনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে।
সাক্ষ্য গ্রহণের সময় তাকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। বাকি দুই আসামি পলাতক। ট্রাইব্যুনাল বিরতীতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মাহমুদুর রহমান তার সাক্ষ্যে কী বলেছেন, তা তুলে ধরার এক পর্যায়ে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি (মাহমুদুর রহমান) সাক্ষ্য দিচ্ছেন। তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আমরা আশা করছি আর দু-একজনের সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হবে।
সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হলে বিচারের নিয়মতান্ত্রিক যে প্রক্রিয়া আছে, সেই প্রক্রিয়ায় বিচারটি সমাপ্তির দিকে ধাবিত হবে।’ আর খুব বেশি সাক্ষ্য হবে না, জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আগামীকাল মঙ্গলবার নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্য প্রদানের কথা আছে। তার সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে এবং আমাদের একজন ফরমাল সাক্ষী আছে, তার সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে আশা করছি এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হবে।’
আসামিদের অপরাধ প্রমাণে প্রসিকিউশন যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে বলে মনে করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি এই মামলা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট অ্যাভিডেন্স (সাক্ষ্য-প্রমাণ) আদালতে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। সুতরাং আর কোনো সাক্ষ্য গ্রহণের তেমন বেশি প্রয়োজন নেই। বাকি দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পরে আমরা মামলাটি সমাপ্তির জন্য প্রেয়ার (নিবেদন) করব। যুক্তি তর্কের দিকে যাব বলে আশা করছি।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু এখানো কোনো ডিফেন্সের (আসামিপক্ষে) পক্ষ থেকে সাক্ষী দেওয়ার ব্যপার নেই, আসামি দুজন (শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল) পলাতক আছেন। আর যিনি (সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন) হাজির আছেন, তিনি দোষ স্বীকার করেছেন। তিনি তো আর ডিফেন্সের (আসামি পক্ষের হয়ে) সাক্ষী দিবেন না। সে কারণে আমরা ধরে নিচ্ছি ডিফেন্সের কোনো সাক্ষী আসবে না। সেক্ষেত্রে মামলাটি যুক্তিতর্কের জন্য হয়তো নির্ধারিত হতে পারে।’
গত বছর ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়। সেই অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় গত বছর ১৪ অক্টোবর। ছয় মাস ২৮ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ১২ মে শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গত ১ জুন প্রসিকিউশন ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ দাখিল করলে তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আত্মসমর্পণ করতে ১৬ জুন সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন সেই বিজ্ঞপ্তি দুটি জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হয়। আসামিরা আত্মসমর্পণ না করায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন। গত ৩ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের পর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। মামলার ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে সোমবার সাক্ষ্য দেন মাহমুদুর রহমান।
বার্তা বাজার/এস এইচ






