শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি নয়ন দাস (২৯)। মাদক ও জুয়ার আসরের ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীরা এ হামলা চালিয়েছে। এঘটনায় মামলার দীর্ঘ প্রায় এক মাস পর পুলিশ একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন প্রধান আসামীসহ অন্যান্যরা।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশিত করেছেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের আকালবড়িশ এলাকা থেকে মামলার আসামী লিখন কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত লিখন কাজী গোসাইরহাট উপজোর নাগেরপাড়া এলাকার বাদশা কাজীর ছেলে। তিনি ওই মামলার ৪ নম্বর আসামী।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায় , গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা পোষ্টের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক নয়ন দাসসহ স্থানীয় আরো কয়েকজন সংবাদকর্মী তথ্য সংগ্রহ করতে নাগেরপাড়া এলাকায় যান। এসময় তাদের কাছে গোপনে একটি তথ্য আসে যে উত্তর মলংচরা এলাকার ফসলি জমির মাঝখানে নিয়মিত একটি জুয়া ও মাদকের আসর বসে। পরে নয়ন দাসসহ স্থানীয় ৪ জন সাংবাদিক সেখানে গিয়ে দেখতে পান জুয়া ও মাদকরে আসর বসছে। এসময় তাদের মোবাইল ও ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে চলে আসেন। কিন্তু জুয়া ও মাদক কারবারিদের কয়েকজন তাদেরকে চিনতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঁৎ পেতে থাকেন। এরপরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পেশাগত কাজ শেষে শরীয়তপুর জেলা শহরে যাওয়ার উদ্যেশে রওনা হলে মাঝপথে নাগেরপাড়ায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা আসামী সাইদুল আকন, মনির জমাদার, নজরুল কাজী, ও লিখন কাজীসহ আরো ৪ থেকে ৫ জন যুবক ওই সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান এবং তার ক্যামেরা মানিব্যাগ মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এতে সাংবাদিক নয়ন দাস গুরুতর আহত হন। পরে আহত সাংবাদিক নয়ন দাসকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক নয়ন দাস বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে ও আরো অজজ্ঞাত ৪/৫ জনের নামে গোসাইরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত কারী কর্মকর্তা অভিযোগটিকে মামলা হিসেবে রুজু করেন। এরপর এ মামলার আসামী হিসেবে লিখন কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এখনও প্রধান আসামিসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। কিন্তু পুলিশ জানিয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাংবাদিকের ওপর হামলা মামলার আসামী লিখন কাজীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






