একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ’ করে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আজ মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া অনিবার্যভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ইমেজ সংকট হয়। তবে আমি আগেই বলেছিলাম যে আমার কর্মকালে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ন্যূনতম দুর্নীতির অভিযোগ এলে বরদাশত করা হবে না। বৈঠক করে প্রত্যেক প্রসিকিউটরকে আমি একই কথা বলেছি।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কর্মরত ব্যক্তিদের অবশ্যই নির্লোভ হতে হবে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। এমন হতে না পারলে এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। যে কেউই চলে যেতে পারবেন।’
সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি সংবাদ দেখেছি। এটা গুরুতর অভিযোগ। এমন কিছু আমাদের কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠার কথা ছিল না। যখন উঠেছে তাৎক্ষণিকভাবে এটার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আমরা এটা প্রশ্রয় কেন দিয়েছি জানি না।’
‘তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। এলে আমরা অভ্যন্তরীণ তদন্ত করব’, যোগ করেন আমিনুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। তাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা চেয়েছিলেন সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার।
হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রেকর্ডিংগুলো সংগ্রহ করেছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিক। এ নিয়ে আজ একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়েছে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






