ঢাকা   সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

‘আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করিনি, বন্ধ হয়ে গেছে’ বক্তব্যের ভিডিও মনোযোগ দিয়ে দেখলেন পলক

Authorনিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

‘আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করিনি, বন্ধ হয়ে গেছে’ বক্তব্যের ভিডিও মনোযোগ দিয়ে দেখলেন পলক

‘আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করিনি, বন্ধ হয়ে গেছে..’- সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের দেওয়া বক্তব্যের এমন একটি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করে প্রসিকিউশন। আর সেটি কাঠগড়ায় বসে মনোযোগ দিয়ে দেখলেন আসামি নিজেই।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানির দিন ধার্য ছিল রোববার (১১ জানুয়ারি)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শুনানির প্রথমে জয় ও পলকের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান, দেশের বাইরে থাকলেও সব ধরনের কাজে হস্তক্ষেপ করতেন সজীব ওয়াজেদ জয়। জুলাই আন্দোলনের সময় পলককে তিনিই ইন্টারনেটের গতি কমানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেন। শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকতে শেখ হাসিনার সরকারকে সহায়তা করেন পলক। এজন্য জয়ের নির্দেশে বিশ্বের কাছ থেকে গণহত্যার তথ্য আড়াল করতে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় তার মন্ত্রণালয়। মূলত জয়ের কাছ থেকেই ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত আসতো।

এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে একটি ভিডিও দেখানো হয়। প্রদর্শিত ভিডিওটি জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ নিয়ে দেওয়া পলকের। এতে সাবেক এই আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করিনি, বন্ধ হয়ে গেছে..’ ভিডিওটি বেশ মনোযোগ দৃষ্টিতে দেখেন কাঠগড়ায় থাকা পলক।

ভিডিও প্রদর্শনের পর সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ পড়েন চিফ প্রসিকিউটর। অভিযোগ নম্বর-১ এ বলা হয়, জয়ের কথামতো ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পরপর তিনটি পোস্ট করে উসকানি দেন পলক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী।

চার্জ-২ এ বলা হয়, উভয়ের পরামর্শক্রমে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেন জয় ও পলক। একইসঙ্গে হত্যায় সহায়তা করেন। ফলে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় শহীদ হন রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন।

তিন নম্বর অভিযোগ প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম জানান, উত্তরায় ৩৪ হত্যায় সহায়তা করেন আসামিরা। তাদের উসকানি ও প্ররোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় ছয় বছরের জাবির ইবরাহিম, সাগর হোসেন, সুজনরা শহীদ হন।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাদের এসব অপরাধ শাস্তিযোগ্য। আমরা অডিও-ভিডিও প্রমাণ দিয়েছি। অতএব এই দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করছি।

পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এদিন সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তবে পলাতক থাকায় জয়ের পক্ষে লড়ছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম।

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন