ঢাকা   রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েও মা-বাবার কাছে ফেরা হলো না শিশুটির

Authorনিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০২ এএম

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েও মা-বাবার কাছে ফেরা হলো না শিশুটির

চট্টগ্রামে পুলিশের গাফিলতিতে তিন দিন বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়েছে সাত বছরের এক শিশু। গতকাল সোমবার গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তি পেলেও বাবা সাগরে এবং মা কারাগারে থাকায় শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের জিম্মায় সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে।

এর আগে গত শুক্রবার নগরের ষোলশহর এলাকা থেকে একটি অপহরণ মামলায় তার মায়ের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু আইন অনুযায়ী, ৯ বছরের নিচের কোনো শিশুকে কোনো অবস্থাতেই গ্রেপ্তার কিংবা আটক রাখা যাবে না। এমনকি বয়স্কদের সঙ্গে মামলা নেওয়ারও সুযোগ নেই। মামলার বিষয়টি জানাজানির পর গত রোববার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাসানুল ইসলাম শিশুটিকে মুক্তির আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রবেশন কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ বলেন, চট্টগ্রাম আদালতের নির্দেশে ওই শিশুটিকে গাজীপুরে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে মুক্তি দেওয়ার পর আমাদের জিম্মায় নিয়েছি। তাকে টঙ্গী থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে। তার বাবা সাগরে কাজে থাকায় ও মা কারাগারে বন্দি থাকায় তাকে হাটহাজারীর সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হবে। বাবা সাগর থেকে ফিরে আসার পর শিশুটিকে তাঁর জিম্মায় দেওয়া হবে। অথবা মা কারাগার থেকে মুক্তি পেলে তাঁর জিম্মায় দেওয়া হবে। বাবা-মা কেউ না আসা পর্যন্ত শিশুটি আমাদের জিম্মায় থাকবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৩ এপ্রিল ঘটনার সূত্রপাত। অসুস্থ বড় ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান মা আনোয়ারা বেগম। তাঁর পাশ থেকে হারিয়ে যায় চার বছরের শিশু মো. রামিম। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সাত মাস পর গত শুক্রবার পাঁচলাইশ থানায় অপহরণ মামলা করেন তিনি। মামলায় আসামি করা হয় সাত বছরের শিশু ও তার মাকে। তবে শিশু রামিমকে এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

অভিযোগ, হাসপাতালের বারান্দা থেকে ওই দুজন রামিমকে খেলার কথা বলে নিয়ে গেছে। অভিযোগের দিনই পাঁচলাইশ থানার এসআই এনামুল হক শিশুটি ও তার মাকে ষোলশহর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন।

শুক্রবার আদালতে পাঠানো হলেও শিশুটিকে এজলাসে হাজির করা হয়নি। অবকাশকালীন কার্যক্রম চলায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত অন্তর্বর্তী আদেশে শিশুটিকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গত রোববার চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শিশুটির জামিন আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে শিশুটিকে মুক্তির আদেশ দেন।

গাজীপুরে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ইমরান খান বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়ার পর শিশুটিকে একজন সমাজকর্মীর তত্ত্বাবধানে পাঠানো হয়েছে।

শিশুটির বাবা বিদেশ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা পণ্যবাহী জাহাজে শ্রমিকের কাজ করেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, ‘পুলিশ কোনো তদন্ত, সাক্ষ্য ও প্রমাণ ছাড়া আমার শিশুসন্তান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা নিয়েছে। আবার গ্রেপ্তারও করেছে। আমার ছেলেকে ছেড়ে দিলেও তার মা এখনও কারাগারে। আমার সাড়ে তিন বছর বয়সী আরেকটি শিশু রয়েছে। সে এখন তার খালার কাছে রয়েছে। যারা বিনা কারণে আমার স্ত্রী ও সন্তানকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন