২০২৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে মাধ্যমিকে চালু হচ্ছে নতুন বা পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম। প্রথম বছর এই শিক্ষাক্রম চালু হবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে, এরপর পর্যায়ক্রমে তা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
বুধবার (৪ জুন) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)। তার সঙ্গে ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব খ ম কবিরুল ইসলাম।
পুরনো শিক্ষাক্রমে ফিরলেও নতুনের প্রস্তুতি
২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠদান চলছিল। পরিকল্পনা ছিল ২০২৪ সালেই চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতেও নতুন শিক্ষাক্রম চালুর মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায় সম্পূর্ণরূপে আধুনিক পাঠ্যক্রমে রূপান্তর করার। তবে ওই বছরের জুলাইয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে (আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও নতুন সরকারের আগমন) মাধ্যমিক পর্যায়ের নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করা হয় এবং পূর্ববর্তী ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম আবার চালু করা হয়।
তবে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন শিক্ষাক্রম বহাল রয়েছে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষে দেওয়া পাঠ্যবইও সেই অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নতুন পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে।
শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে উপদেষ্টার বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন,
“নতুন ভাবনা, নতুন স্বপ্ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আমাদের চিন্তার ধরণে পরিবর্তন আনতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষার জন্য আমাদের একটি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম বজায় থাকলেও, অন্তত নিজের মেয়াদকালে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে যেতে চান যাতে ভবিষ্যতে একটি পরিপূর্ণ নতুন শিক্ষাধারা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
ষষ্ঠ শ্রেণি দিয়ে ধাপে ধাপে রূপান্তর
মাউশির সচিব সিদ্দিক জোবায়ের জানান, একসঙ্গে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই ২০২৭ সাল থেকে প্রথমে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে এবং ধাপে ধাপে অন্যান্য শ্রেণিতেও এটি বিস্তৃত হবে।
অন্যান্য উদ্যোগ
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আগামী ১ জুলাই থেকে কলেজ পর্যায়ে শিক্ষকদের অনলাইন বদলি কার্যক্রম শুরু হবে। একই ধরনের প্রক্রিয়া অচিরেই স্কুল পর্যায়েও চালু করা হবে।
এছাড়া, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য সরকার ২ হাজার কোটি টাকার বন্ড এবং ২০০ কোটি টাকা নগদ বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।






