ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্র শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুর ছয় মাস পার হয়ে গেলেও খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে না পারা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। তিনি পদত্যাগ না করলে বা তাকে অপসারণ না করলে ভিসি কার্যালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের সক্রিয় সদস্য।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সাজিদ হত্যাকাণ্ডে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এমন দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই ছয় মাসে প্রশাসন অনেক নয়-ছয় করেছে। এই নয়-ছয় আর চলতে দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি করে বলতে চাই— ব্যর্থ প্রক্টর ও তাঁর বডিকে আগামীকাল বিকেল ৪টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় অপসারণ করবেন। যদি প্রক্টর বডিকে অপসারণ করতে ব্যর্থ হোন তাহলে আগামী বুধবার ১১ টার সময় ভিসি অফিস ঘেরাও করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সাজিদ হত্যার পর গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সাথে যারা জড়িত তাদেরকেও আমার সন্দেহ হয়, তাদেরকেও তদন্তের আওতায় আনুন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়ে উপ-উপাচার্যকে জানাতে গেলে তিনি বলেন, আমি তাদের দাবিটি উপাচার্যের সামনে উপস্থাপন করবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেহেতু প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কর্তৃক নিয়োগকৃত, তার একক কোনো দায় নাই; যদি দায় থেকে থাকে তাহলে সেটা সম্পূর্ণ আমাদের প্রশাসনের। সাজিদ হত্যার বিচার আমরা সবাই চাই। হত্যাকাণ্ডটি পুলিশি কেসের তদন্তাধীন, ভিসি থেকে শুরু করে প্রশাসনের আন্তরিকতার ঘাটতি নাই। যদি কোন কারণে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন কিছু কর্মসূচি দেয় তাহলে শুধু প্রক্টর কেন; আমরা সবাই শিক্ষার্থীদের কাতারে চলে যাব।
এদিকে মানববন্ধনের পরপরই শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মানিত প্রক্টর স্যারের পদত্যাগের আল্টিমেটাম ইবি ছাত্রদলের কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মাহমুদ মন্ডলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলের শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহের সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সিস্টেম আইসিটি সেল থেকে প্রক্টর অফিসে স্থাপনের বিষয়ে গতবছরের ১৫ জুলাই চিঠি ইস্যু করা হলেও আমরা চিঠি পেয়েছি ১৮ জুলাই। এছাড়া এখনো পর্যন্ত আইসিটি সেল মনিটরিং সিস্টেম প্রক্টর অফিসকে বুঝিয়ে দেয়নি। হলের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েবের দায় হল প্রভোস্টের।’
প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই ইবির শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে ভেসে উঠে সাজিদ আব্দুল্লাহর লাশ। পরবর্তীতে ভিসেরা রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এঘটনার পর দীর্ঘ ৬ মাস ৯ দিন পার হলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি প্রশাসন। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে এ হত্যার তদন্তে কাজ করছে সিআইডি।
বার্তা বাজার/এস এইচ






