ঢাকা   শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: উপজেলা প্রতিনিধি

ঢাবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু হল’ নাম বদলের প্রতিবাদ শিক্ষক নেটওয়ার্কের

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

ঢাবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু হল’ নাম বদলের প্রতিবাদ শিক্ষক নেটওয়ার্কের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা হল ও স্থাপনার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে অনভিপ্রেত ও রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। পাশাপাশি এ ধরনের নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) শিক্ষক নেটওয়ার্ক এক বিবৃতিতে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের একটি নিন্দনীয় সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

বিশেষ করে গত ১৭ বছরে এই প্রবণতা চরম আকার ধারণ করে, যেখানে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থে অসংখ্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এটিকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে পারিবারিকীকরণ বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসিক হল, অনুষদ ভবন, বিভাগ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমনকি সড়ক ও চত্বরের নামও রাজনৈতিক বিবেচনায় বদলে ফেলার ঘটনা ঘটছে। রাষ্ট্র ও জনগণের অর্থ ব্যয় করে কেবল রাজনৈতিক বিবেচনায় নামকরণের এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় ও অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা স্থাপনাগুলোতেই বেশি করে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, এসব সিদ্ধান্ত কোনো চেতনা থেকে নয়, বরং ইতিহাস ও সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত বিষয়গুলো মুছে দেওয়ার রাজনৈতিক নীলনকশার অংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, প্রায় ৪০ বছর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত একটি হলের নাম পরিবর্তন করে শহিদ ওসমান হাদির নামে রাখার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট, যা সিনেটে চূড়ান্ত হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত দুটি ছাত্রাবাস জাতীয় দুই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নামে নামকরণ করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এই নাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলেও শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার কোনো যুক্তি নেই বলে মন্তব্য করে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

শহীদ ওসমান হাদির প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, তাঁর হত্যাকাণ্ডের বিচার ও প্রতিবাদে সংগঠনটি আগেও অবস্থান নিয়েছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি জাতীয় নেতার নামে পরিচিত ছাত্রাবাসের নাম পরিবর্তন করে হাদির নামে রাখা হটকারী সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক অপরিপক্বতার বহিঃপ্রকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে শহিদ হাদির নামে নতুন কোনো ভবনের নামকরণ করা যেতে পারে বলেও মত দেয় সংগঠনটি।
অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন